ব্রেকিংনিউজ

আজকের সর্বশেষ

No post found

প্রচ্ছদ | সারাদেশ

বকশিস না দেয়ায় স্কুল ছাত্রের মাস্ক কেড়ে নেয়ার ঘটনায় মৃত্যু

প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার ১১ নভেম্বর ২০২১ ১৩:০০

ফাইল ছবি

বকশিশ কম পেয়ে অসুস্থ স্কুলছাত্রের অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়ার ঘটনায় বগুড়ার জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের কর্মচারী আসাদুজ্জামান দুলু (৪০) ধরা পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) ভোরে ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব ১২৷ 


র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার সোহরাব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।



পুলিশ ও স্বজনরা জানান, মৃত স্কুলছাত্র বিকাশ চন্দ্র কর্মকার গাইবান্ধা উপজেলার সাঘাটা উপজেলার শিয়ালকুন্ডি গ্রামের বিশু চন্দ্র কর্মচারের ছেলে। সে স্থানীয় একটি স্কুলে ৮ম শ্রেণিতে পড়তো। সংসারে অভাবের কারণে বিকাশ লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতো। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সে বাইসাইকেলে বাড়ি ফিরছিল। পথে একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। তাকে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাত ১০টার দিকে তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।



বিকাশের কাকা শচীন চন্দ্র কর্মকার বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কাজ শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অক্সিজেনসহ ভাতিজাকে তৃতীয় তলায় সার্জারি বিভাগে নেওয়া হয়। ট্রলি বহনকারী হাসপাতালের কর্মচারী আসাদুজ্জামান দুলু বেডে পৌঁছে দেওয়ার পর ২০০ টাকা বকশিশ দাবি করেন। বিকাশের বাবা তাকে ১৫০ টাকা দিলে দুলু আরও ৫০ টাকার জন্য বাগবিতণ্ডা শুরু করে। টাকা দিতে না পারায় ক্ষুব্ধ দুলু অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেয়। তাকে মাস্ক লাগাতে অনুরোধ করলেও সে অস্বীকৃতি জানায়। বাধ্য হয়ে নিজেরা মাস্ক লাগালোর চেষ্টা করেন। এ সময় নাক-মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে বিকাশের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসক এসে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এ সময় রোগীর লোকজন দুলুর ওপর চড়াও হলে সে কর্তব্যরত আনসারদের সহযোগিতায় পালিয়ে যায়।


ছিলিমপুর মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শামিম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রোগী মারা যাওয়ার পর উত্তেজনা দেখা দেয়। তখন তৃতীয় তলায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। এর আগেই অভিযুক্ত কর্মচারী পালিয়ে যায়।


তিনি আরও জানান, দুলু গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কুমিরাডাঙ্গা গ্রামের জইনুদ্দিন মীরের ছেলে। বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে বিকাশের মরদেহ স্বজনরা নিয়ে গেছেন। দরিদ্র হওয়ায় তারা

মামলার বিষয়ে আগ্রহী নন বলে জানান তিনি। 


শজিমেকের উপ-পরিচালক ডা. আবদুল ওয়াদুদ জানান, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনির আলী আকন্দের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেবেন। অভিযোগের সত্যতা পেলে দুলুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন